লাল ছাতার রহস্য | বৃষ্টির দিনে পাওয়া একটি ছাতা কেন সবাই খুঁজছিল? | Bireswar Goyenda | A Bengali Story by Tanmoy Roy | cholo golpo suni
কলকাতার বৃষ্টি ভেজা সকালগুলো সবসময়ই যেন একটু অন্যরকম। আকাশে ধূসর মেঘ, রাস্তায় হালকা কুয়াশা আর টিপটিপ বৃষ্টি শহরটাকে এক অদ্ভুত রহস্যময় আবহ এনে দিত। সেই সকালেও ঠিক তেমনটাই ছিল।
শহরের উত্তর কলকাতার পুরনো একটি তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় নিজের ছোট্ট গোয়েন্দা অফিসে বসে ছিলেন বীরেশ্বর গোয়েন্দা। মাঝারি উচ্চতা, চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি আর অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার জন্য তিনি শহরে বেশ পরিচিত। বড় বড় কেস সমাধান করার পরেও তাঁর স্বভাবের মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। বরং সাধারণ মানুষের সমস্যাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন।
সেদিন সকালে অফিসে বসে তিনি চা খাচ্ছিলেন আর একটি পুরনো ফাইল ঘাঁটছিলেন। জানলার কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে টুপটাপ শব্দ হচ্ছিল। ঠিক তখনই টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা বেজে উঠল।
“ট্রিং ট্রিং… ট্রিং ট্রিং…”
বীরেশ্বর ফোনটা তুলে শান্ত গলায় বললেন,
— হ্যালো, কে বলছেন?
ওপাশ থেকে কাঁপা কণ্ঠে ভেসে এল,
— স্যার… আমি যতন বলছি… যতন ট্যাক্সিওয়ালা।
বীরেশ্বর একটু চমকে উঠলেন। যতনকে তিনি চিনতেন। বহুবার বিভিন্ন কাজে লোকটাকে সাহায্য করতে দেখেছেন। ভীষণ সৎ আর পরিশ্রমী মানুষ।
— হ্যাঁ যতন, কী হয়েছে?
— স্যার… আমি খুব বিপদে পড়েছি। আপনার সাহায্য দরকার।
— কী হয়েছে খুলে বলো।
— ফোনে বলা যাবে না স্যার। ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস। আপনি অফিসে আছেন তো?
— আছি। তুমি চলে এসো।
প্রায় এক ঘণ্টা পরে অফিসের সামনে একটি হলুদ ট্যাক্সি এসে দাঁড়াল। বৃষ্টি তখনও পড়ছে। ট্যাক্সি থেকে নেমে ভিজে জামাকাপড় সামলে যতন দ্রুত অফিসের ভেতরে ঢুকল। তার হাতে ছিল একটি লাল রঙের ছাতা।
ছাতাটি অদ্ভুত সুন্দর। চকচকে লাল কাপড়, হাতলে রূপালি নকশা। কিন্তু যতনের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল ছাতাটি তার কাছে সৌন্দর্যের নয়, আতঙ্কের কারণ।
বীরেশ্বর ছাতাটার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— বাহ! বেশ সুন্দর ছাতা তো!
যতন গিলে ফেলল শুকনো লালা।
— স্যার, এই ছাতাটার জন্যই আমার জীবন বিপদে পড়েছে।
বীরেশ্বর চশমা খুলে টেবিলে রাখলেন। এবার তিনি পুরোপুরি মনোযোগ দিলেন।
— ঠিক কী হয়েছে, শুরু থেকে বলো।
যতন গভীর শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল।
গতকাল সকালে সে প্রতিদিনের মতো ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়েছিল। তখনই এক ভদ্রলোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাত দেখিয়ে ট্যাক্সি থামান। কালো কোট পরা, মুখে দাড়ি, চোখেমুখে ভয় আর অস্থিরতা। তাঁর হাতে ছিল এই লাল ছাতাটি।
গাড়িতে ওঠার পর থেকেই লোকটা বারবার পিছনে তাকাচ্ছিল। যেন কেউ তাকে অনুসরণ করছে। যতন গন্তব্য জিজ্ঞেস করলে লোকটি বলেছিলেন,
— আগে গাড়ি চালাও। পরে বলছি।
কয়েক মিনিট পর লোকটি হঠাৎ বললেন,
— এখানেই থামাও।
গাড়ি থামতেই তিনি দ্রুত নেমে গেলেন। তারপর আবার ফিরে এসে ছাতাটি যতনের হাতে দিয়ে বললেন,
— কাল ঠিক এই সময় এখানে থাকবে। আমি এসে এটা নিয়ে যাব।
কথাগুলো বলেই লোকটা ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যান।
যতন তখনও বুঝতে পারেনি যে এই ছাতাটি তাকে এক ভয়ংকর খেলায় জড়িয়ে ফেলতে চলেছে।
সারাদিন সে ছাতাটি ট্যাক্সিতেই রেখেছিল। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত ঘটনা শুরু হয়।
বাড়ি ফেরার সময় সে লক্ষ্য করে দু’জন লোক বাইক নিয়ে তাকে অনুসরণ করছে। প্রথমে ব্যাপারটা গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু বাড়ির কাছ পর্যন্ত লোকগুলো পিছু নেয়।
রাতে প্রায় একটা নাগাদ হঠাৎ ট্যাক্সির কাছে শব্দ শুনে যতনের ঘুম ভাঙে। জানলা দিয়ে সে দেখে একজন লোক টর্চ হাতে তার ট্যাক্সির ভেতর খোঁজাখুঁজি করছে। যতন চিৎকার করতেই লোকটা পালিয়ে যায়।
কিন্তু আসল ভয়টা আসে কিছুক্ষণ পরে।
দরজায় জোরে কিছু আঘাত করার শব্দ হয়। বাইরে গিয়ে যতন দেখতে পায় একটি পাথরে মোড়ানো কাগজ পড়ে আছে। কাগজে বড় বড় অক্ষরে লেখা—
“লাল ছাতাটা ফেরত দে।”
বীরেশ্বর মন দিয়ে সব শুনছিলেন। তাঁর চোখে এখন রহস্যের ঝিলিক।
— লোকটার মুখ ভালো করে দেখেছিলে?
— না স্যার। অন্ধকার ছিল। আর মুখও ঢাকা ছিল।
— কাগজটা এনেছ?
যতন কাঁপা হাতে পকেট থেকে কাগজ বের করল।
বীরেশ্বর সেটা নিয়ে অনেকক্ষণ পরীক্ষা করলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন,
— তুমি পুলিশে খবর দাওনি কেন?
— খুব ভয় পেয়েছিলাম স্যার। তারপর আজ সকালে খবরের কাগজে দেখলাম যে সেই ভদ্রলোক খুন হয়েছেন। তখনই আপনার কাছে চলে এলাম।
বীরেশ্বরের চোখ সরু হয়ে এল।
— খুন?
যতন মাথা নাড়ল।
ঘরের ভেতরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। বাইরে বৃষ্টির শব্দ বেড়ে গেল।
বীরেশ্বর সঙ্গে সঙ্গে থানায় ফোন করলেন। থানার বড়বাবুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। তিনি পুরো ঘটনাটা সংক্ষেপে জানিয়ে পুলিশ পাঠাতে বললেন।
ফোন রেখে তিনি ছাতাটা হাতে নিলেন। ভালো করে পরীক্ষা করতে লাগলেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে ছাতার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক কিছু বোঝা গেল না।
ঠিক তখনই দরজায় জোরে কড়া নাড়ার শব্দ হল।
“ঠক ঠক ঠক!”
যতনের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
— স্যার… ওরা এসেছে!
বীরেশ্বর শান্ত গলায় বললেন,
— দরজা খোলো।
— কী বলছেন স্যার! লোকগুলো বিপজ্জনক হতে পারে!
— চিন্তা করো না। পুলিশ আসছে। ততক্ষণ ওদের আটকে রাখতে হবে।
যতন কাঁপতে কাঁপতে দরজা খুলল।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বিশাল চেহারার এক লোক। চোখে নিষ্ঠুরতা, মুখে দাগ, গায়ে কালো জ্যাকেট।
লোকটা ঘরে ঢুকেই গর্জে উঠল,
— ছাতাটা কোথায়?
যতন ভয়ে পিছিয়ে গেল।
বীরেশ্বর শান্তভাবে বললেন,
— কোন ছাতা?
লোকটা এবার কোমর থেকে পিস্তল বের করল।
— নাটক করবেন না। কাল সকালে যে লোকটা এই ট্যাক্সিওয়ালাকে লাল ছাতাটা দিয়েছিল, সেটা কোথায় রেখেছেন বলুন।
বীরেশ্বর বিন্দুমাত্র ভয় পেলেন না। বরং তিনি লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— আপনি ভুল করছেন। আমাদের কাছে কোনো লাল ছাতা নেই।
লোকটা চিৎকার করে উঠল,
— তিন গুনব। তারপর গুলি করব!
ঘরের পরিবেশ মুহূর্তে থমথমে হয়ে গেল।
যতনের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
লোকটা গুনতে শুরু করল—
— এক…
বীরেশ্বর ধীরে ধীরে টেবিলের পাশে সরে এলেন।
— দুই…
যতন চোখ বন্ধ করে ফেলল।
— তিন!
ঠিক সেই মুহূর্তে দরজা ভেঙে পুলিশ ঢুকে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে গুন্ডাটার হাত থেকে পিস্তল কেড়ে নিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দিল।
সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে লোকটা প্রতিরোধ করার সুযোগই পেল না।
বড়বাবু ঘরে ঢুকে বললেন,
— ভালো কাজ করেছেন বীরেশ্বরবাবু। লোকটাকে আমরা নিয়ে যাচ্ছি।
এরপর বীরেশ্বর, যতন এবং পুলিশ সবাই থানায় গেলেন।
থানার ঘরে বসে বীরেশ্বর আবার ছাতাটি পরীক্ষা করতে লাগলেন। তিনি কাপড়, রড, হাতল— সব খুঁটিয়ে দেখলেন। কিন্তু কিছুই পেলেন না।
বড়বাবু বললেন,
— কী মনে হচ্ছে?
বীরেশ্বর উত্তর দিলেন না। তাঁর চোখ স্থির ছিল ছাতার হাতলের দিকে।
হঠাৎ তিনি হাতলটা ঘোরাতে শুরু করলেন।
একটু পরেই ‘খট’ করে শব্দ হল।
হাতলটা খুলে গেল।
আর তার ভেতর থেকে গড়িয়ে পড়ল সাতটি ছোট ছোট ঝকঝকে পাথর।
যতন বিস্ফারিত চোখে বলল,
— এ আবার কী!
বীরেশ্বর পাথরগুলো হাতে তুলে নিয়ে গভীরভাবে দেখলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
— এগুলো সাধারণ পাথর নয়… এগুলো হীরে।
ঘরের সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল।
বড়বাবু অবাক হয়ে বললেন,
— অবিশ্বাস্য!
বীরেশ্বর এবার পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন।
যে ভদ্রলোক খুন হয়েছিলেন তিনি আসলে একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। সম্ভবত তিনি একটি আন্তর্জাতিক হীরে পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি হীরেগুলো লুকিয়ে দেন এই ছাতার হাতলের মধ্যে।
এবং নিরাপদ ভেবে ছাতাটি যতনের কাছে রেখে যান।
বড়বাবু গভীর গলায় বললেন,
— এর মানে শহরে বড় কোনো পাচার চক্র কাজ করছে।
বীরেশ্বর মাথা নাড়লেন।
— আর এটাই কেবল শুরু।
বড়বাবু বললেন,
— আমরা চাই আপনি এই কেসে পুলিশকে সাহায্য করুন।
বীরেশ্বর হালকা হাসলেন।
— অবশ্যই। কাল থেকেই তদন্ত শুরু করব।
সেদিন থানার বাইরে বেরিয়ে যখন বীরেশ্বর আর যতন রাতের অন্ধকারে হাঁটছিলেন, তখন দু’জনেরই মনে হচ্ছিল— লাল ছাতার রহস্য এখনও শেষ হয়নি। বরং আরও বড় বিপদ তাদের অপেক্ষায় রয়েছে।
কলকাতার আকাশে তখনও মেঘের আনাগোনা। কিন্তু বীরেশ্বরের মাথার ভেতরে তার থেকেও ঘন কুয়াশা জমেছিল। লাল ছাতার ভেতর পাওয়া সাতটি হীরে যেন পুরো শহরের এক অন্ধকার দুনিয়ার দরজা খুলে দিয়েছে।
তিনি নিজের অফিসে বসে আগের রাতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করছিলেন। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিল কিছু ছবি, সংবাদপত্রের কাটিং আর থানার রিপোর্ট।
যে প্রাইভেট ডিটেকটিভ খুন হয়েছিলেন, তাঁর নাম অরিন্দম সেন। তিনি গত কয়েক মাস ধরে কলকাতার এক গোপন হীরে পাচার চক্রের খোঁজ করছিলেন। পুলিশের কাছে কিছু তথ্য পাঠানোর আগেই তাঁকে খুন করা হয়।
বীরেশ্বরের সন্দেহ হচ্ছিল— অরিন্দম হয়তো এমন কিছু জানতে পেরেছিলেন যা পাচার চক্রের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক ছিল।
ঠিক তখনই অফিসে ঢুকল যতন।
লোকটার চোখে এখনও ভয়ের ছাপ। কিন্তু তার ভেতরে একধরনের কৌতূহলও কাজ করছিল।
— স্যার, আজ আমরা কোথায় যাব?
বীরেশ্বর বললেন,
— প্রথমে অরিন্দম সেনের বাড়ি।
তারা ট্যাক্সি নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার এক পুরনো অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছাল। অরিন্দম একাই থাকতেন। পুলিশের অনুমতি নিয়ে বীরেশ্বর তাঁর ঘর পরীক্ষা করতে শুরু করলেন।
ঘরটি অগোছালো ছিল। মনে হচ্ছিল কেউ তন্নতন্ন করে কিছু খুঁজেছে। আলমারি ভাঙা, বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।
কিন্তু বীরেশ্বরের চোখ আটকে গেল টেবিলের ওপর রাখা একটি নোটবুকে।
নোটবুকের শেষ পাতায় কয়েকটি শব্দ লেখা ছিল—
“রেড রেইন… ডক নম্বর ১৭… কালো গুদাম…”
যতন বলল,
— এগুলোর মানে কী স্যার?
বীরেশ্বর বললেন,
— সম্ভবত কোডওয়ার্ড।
ঠিক তখনই তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খুঁজে পেলেন। টেবিলের নিচে আটকে ছিল একটি ছোট্ট পেনড্রাইভ।
পেনড্রাইভটি নিয়ে তারা দ্রুত থানায় ফিরে এল।
পুলিশের সাইবার টিম সেটি খুলতেই দেখা গেল কয়েকটি ছবি এবং কিছু গোপন নথি রয়েছে।
ছবিগুলোতে দেখা গেল কলকাতার বন্দরের কাছে একটি পরিত্যক্ত গুদামঘর। আর নথিতে কয়েকজন বড় ব্যবসায়ীর নাম।
বড়বাবু অবাক হয়ে বললেন,
— এরা সবাই সমাজে সম্মানিত মানুষ!
বীরেশ্বর ঠান্ডা গলায় বললেন,
— অপরাধীরা সবসময় অপরাধীর মতো দেখতে হয় না।
তদন্তে জানা গেল, পাচার চক্রটি বিদেশ থেকে অবৈধভাবে হীরে এনে কলকাতার মাধ্যমে অন্য দেশে পাঠাত। আর এই পুরো নেটওয়ার্কের মূল মাথা ছিল একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী— দেবরাজ মল্লিক।
দেবরাজ বাইরে থেকে অত্যন্ত ভদ্র এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আড়ালে সে ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর অপরাধী।
বীরেশ্বর বুঝতে পারলেন, অরিন্দম সেন সম্ভবত দেবরাজের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেদিন রাতেই বন্দর এলাকায় নজরদারির পরিকল্পনা করা হল।
বীরেশ্বর, বড়বাবু এবং কয়েকজন সাদা পোশাকের পুলিশ গোপনে ডক নম্বর ১৭-এর আশেপাশে লুকিয়ে রইলেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে উঠল। দূরে নদীর জল আর জাহাজের সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
হঠাৎ একটি কালো গাড়ি এসে থামল।
গাড়ি থেকে নেমে এল তিনজন লোক। তাদের একজনকে দেখে বীরেশ্বর সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারলেন।
সে দেবরাজ মল্লিক।
লোকগুলো দ্রুত একটি গুদামের ভেতরে ঢুকে গেল।
বীরেশ্বর ফিসফিস করে বললেন,
— এটাই সুযোগ।
পুলিশ ধীরে ধীরে গুদাম ঘিরে ফেলল।
ভেতরে তখন বড় বড় কাঠের বাক্স খোলা হচ্ছিল। বীরেশ্বর দূর থেকে দেখতে পেলেন বাক্সগুলোর ভেতরে দামি পাথর ভর্তি ছোট ছোট প্যাকেট রয়েছে।
হঠাৎ একজন পাচারকারী পুলিশকে দেখে চিৎকার করে উঠল,
— পুলিশ!
মুহূর্তের মধ্যে গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে উঠল।
পুলিশও পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করল।
গুদামের ভেতরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ল। কেউ পালানোর চেষ্টা করছে, কেউ বাক্স লুকোচ্ছে।
দেবরাজ পেছনের দরজা দিয়ে পালাতে যাচ্ছিল। কিন্তু বীরেশ্বর তার পথ আটকে দাঁড়ালেন।
দেবরাজ ঠান্ডা গলায় বলল,
— আপনি ভুল করছেন বীরেশ্বরবাবু। এসবের ফল ভালো হবে না।
বীরেশ্বর বললেন,
— অরিন্দম সেনকেও কি এভাবেই হুমকি দিয়েছিলেন?
দেবরাজের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
— আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না।
বীরেশ্বর হালকা হাসলেন।
— আপনার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।
দেবরাজ হঠাৎ পিস্তল বের করল।
কিন্তু ট্রিগার টানার আগেই যতন পিছন থেকে একটি লোহার রড দিয়ে তার হাতে আঘাত করল। পিস্তল মাটিতে পড়ে গেল।
পুলিশ দ্রুত দেবরাজকে গ্রেফতার করল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো পাচার চক্র ধরা পড়ল। গুদাম থেকে কোটি কোটি টাকার হীরে উদ্ধার হল।
পরদিন সমস্ত সংবাদপত্রের শিরোনাম ছিল—
“লাল ছাতার রহস্য ভেদ করে আন্তর্জাতিক হীরে পাচার চক্র ধ্বংস।”
অরিন্দম সেনের মৃত্যুর বিচার মিলল।
আর যতন, যে একজন সাধারণ ট্যাক্সিওয়ালা ছিল, সে অজান্তেই এই বড় অপরাধচক্র ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করল।
কয়েকদিন পরে সন্ধ্যাবেলা বীরেশ্বর অফিসে বসে ছিলেন। বাইরে আবার হালকা বৃষ্টি পড়ছে।
যতন চা নিয়ে এসে বলল,
— স্যার, একটা কথা ভাবছিলাম।
— কী?
— যদি সেদিন ওই লোকটা ছাতাটা আমার ট্যাক্সিতে না ফেলত?
বীরেশ্বর মুচকি হেসে জানলার বাইরে তাকালেন।
— তাহলে হয়তো এই রহস্যের শেষও হতো না।
যতন একটু চুপ করে থেকে বলল,
— তবে একটা কথা মানতেই হবে স্যার… এই লাল ছাতাটা আমার জীবনটাই বদলে দিল।
বীরেশ্বর হেসে বললেন,
— রহস্যের জগতে কখন কোন সাধারণ জিনিস অসাধারণ হয়ে ওঠে, তা কেউ জানে না।
বাইরে তখন বৃষ্টির ফোঁটা ধীরে ধীরে শহরটাকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু বীরেশ্বর জানতেন না— লাল ছাতার রহস্য আসলে এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
দেবরাজ মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার পর কলকাতা শহর যেন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশন— সব জায়গাতেই এখন একটাই খবর। আন্তর্জাতিক হীরে পাচার চক্র ধ্বংস হয়েছে।
কিন্তু বীরেশ্বর গোয়েন্দার মনে শান্তি ছিল না।
কারণ তাঁর অভিজ্ঞতা বলছিল— এত বড় নেটওয়ার্কের সবকিছু এত সহজে শেষ হয়ে যেতে পারে না।
সেই রাতেই থানার বড়বাবুর ফোন এল।
— বীরেশ্বরবাবু, একটু থানায় আসতে পারবেন?
— নতুন কিছু হয়েছে?
— খুবই অদ্ভুত একটা ব্যাপার।
বীরেশ্বর সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন।
থানায় পৌঁছে তিনি দেখলেন বড়বাবুর টেবিলের ওপর একটি কালো চামড়ার ডায়েরি রাখা। ডায়েরিটা বেশ পুরনো। কোণাগুলো ছেঁড়া, পাতাগুলো হলদেটে।
বড়বাবু বললেন,
— এটা আজ দেবরাজ মল্লিকের অফিসের সিক্রেট লকার থেকে পাওয়া গেছে।
বীরেশ্বর ডায়েরিটা খুললেন।
ভেতরে বেশিরভাগ পাতাই ফাঁকা। কিন্তু কয়েকটি পাতায় অদ্ভুত কিছু সংকেত লেখা ছিল।
“R-27”
“Night Train”
“Blue Room”
আর সবচেয়ে নিচে বড় অক্ষরে লেখা—
“শেষ চালান এখনও বাকি।”
বীরেশ্বরের চোখ সরু হয়ে এল।
— এর মানে পাচার চক্র পুরোপুরি শেষ হয়নি।
বড়বাবু গম্ভীর গলায় বললেন,
— আমরাও তাই ভাবছি। কিন্তু সমস্যা হল দেবরাজ মুখ খুলছে না।
ঠিক তখনই যতন থানায় ঢুকল।
— স্যার, বাইরে একজন লোক আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।
— কে?
— নাম বলছে না। শুধু বলছে আপনার খুব দরকারি খবর আছে।
বীরেশ্বর বাইরে এসে দেখলেন মাঝবয়সী এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। মুখে দাড়ি, চোখে আতঙ্ক।
লোকটা ফিসফিস করে বলল,
— আপনি যদি অরিন্দম সেনের খুনের আসল সত্য জানতে চান… তাহলে আজ রাত বারোটায় শিয়ালদহ স্টেশনের পুরনো প্ল্যাটফর্মে আসবেন। একা আসবেন।
কথাটা বলেই লোকটা ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেল।
যতন উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
— স্যার, এটা ফাঁদও হতে পারে।
বীরেশ্বর শান্তভাবে বললেন,
— হতে পারে। কিন্তু আমাদের যেতেই হবে।
সেদিন রাত ঠিক বারোটায় বীরেশ্বর আর যতন গোপনে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছালেন। পুরনো প্ল্যাটফর্মটা প্রায় ফাঁকা। দূরে কয়েকটা লাইট টিমটিম করছে। বাতাসে স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ।
হঠাৎ অন্ধকার থেকে সেই লোকটা বেরিয়ে এল।
সে চারপাশে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল,
— দেবরাজ শুধু একজন সদস্য ছিল। আসল মাথা অন্য কেউ।
— কে?
লোকটা উত্তর দেওয়ার আগেই হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেল।
“ধাম!”
লোকটা বীরেশ্বরের সামনে লুটিয়ে পড়ল।
যতন চিৎকার করে উঠল,
— স্যার! ওকে গুলি করা হয়েছে!
বীরেশ্বর দ্রুত চারদিকে তাকালেন। প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথায় কালো হুডি পরা একজন লোক দৌড়ে পালাচ্ছে।
বীরেশ্বর তাকে ধাওয়া করলেন।
লোকটা দ্রুত রেললাইনের পাশ দিয়ে দৌড়াচ্ছিল। হঠাৎ একটি মালগাড়ি চলে আসায় বীরেশ্বরের গতি থেমে গেল।
মালগাড়ি সরে যাওয়ার পর দেখা গেল লোকটা অদৃশ্য।
কিন্তু মাটিতে পড়ে আছে একটি ছোট্ট ধাতব চাবি।
চাবির গায়ে খোদাই করা— “B-13”
থানায় ফিরে আহত লোকটাকে হাসপাতালে পাঠানো হল। মৃত্যুর আগে সে শুধু একটা কথাই বলতে পেরেছিল—
— ব্লু রুম… ওখানেই সব প্রমাণ…
পরদিন সকাল থেকে আবার তদন্ত শুরু হল।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরে জানা গেল কলকাতার একটি পুরনো হোটেলে ‘ব্লু রুম’ নামে একটি গোপন কক্ষ রয়েছে। বহু বছর আগে সেটা অবৈধ জুয়ার আড্ডা হিসেবে ব্যবহার হত।
বীরেশ্বর, বড়বাবু আর যতন সেদিন সন্ধ্যায় হোটেলে পৌঁছালেন।
হোটেলটি প্রায় পরিত্যক্ত। দেয়ালের রং উঠে গেছে, করিডোরে মাকড়সার জাল।
ম্যানেজার প্রথমে কিছু বলতে চাইছিল না। কিন্তু পুলিশের চাপের মুখে সে জানাল, বেসমেন্টে একটি পুরনো ঘর আছে যেটাকে আগে ব্লু রুম বলা হত।
তারা নিচে নামতেই ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগল।
ঘরের দরজায় তালা ছিল।
বীরেশ্বর পকেট থেকে B-13 লেখা চাবিটা বের করলেন।
চাবিটা তালায় ঢোকাতেই ‘খট’ করে দরজা খুলে গেল।
ভেতরে অন্ধকার।
টর্চ জ্বালাতেই দেখা গেল ঘরের মাঝখানে একটি বড় টেবিল। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে আছে মানচিত্র, বিদেশি পাসপোর্ট আর কিছু ফাইল।
বড়বাবু উত্তেজিত গলায় বললেন,
— এ তো পুরো পাচার চক্রের রেকর্ড!
ঠিক তখনই পিছন থেকে দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
ঘর অন্ধকারে ডুবে গেল।
একটি ভারী গলা ভেসে এল—
— এতদূর আসা আপনাদের উচিত হয়নি বীরেশ্বরবাবু।
আলো জ্বলে উঠতেই দেখা গেল সামনে দাঁড়িয়ে একজন ভদ্রলোক। নিখুঁত স্যুট, হাতে রিভলভার, ঠোঁটে ঠান্ডা হাসি।
বীরেশ্বর অবাক হয়ে বললেন,
— আপনি!
লোকটা আর কেউ নয়— শহরের বিখ্যাত শিল্পপতি অমিতাভ রায়। যিনি বহুবার পুলিশের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসেছেন।
অমিতাভ ধীরে ধীরে বলল,
— দেবরাজ শুধু আমার হয়ে কাজ করত। আসল ব্যবসা আমি চালাতাম।
যতন রাগে বলল,
— তাহলে অরিন্দমবাবুকে আপনিই খুন করিয়েছেন!
অমিতাভ ঠান্ডা হাসল।
— ও খুব বেশি জেনে গিয়েছিল।
বড়বাবু পিস্তল বের করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু অমিতাভ আগে থেকেই বন্দুক তাক করে রেখেছিল।
— ভুলেও নড়বেন না।
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এল।
বীরেশ্বর ধীরে ধীরে বললেন,
— আপনি পালাতে পারবেন না। পুরো বিল্ডিং পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
অমিতাভ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে হেসে উঠল।
— আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা জানেন? আপনি সবসময় সত্যের খুব কাছে চলে আসেন।
হঠাৎ সে ঘরের লাইট নিভিয়ে দিল।
চারদিকে অন্ধকার। গুলির শব্দ। চিৎকার। ধাক্কাধাক্কি।
কয়েক সেকেন্ড পরে জরুরি আলো জ্বলে উঠতেই দেখা গেল অমিতাভ উধাও।
কিন্তু এবার বীরেশ্বরের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
যতন অবাক হয়ে বলল,
— স্যার, আপনি হাসছেন কেন?
বীরেশ্বর শান্ত গলায় বললেন,
— কারণ পালানোর সময় সে একটা ভুল করে ফেলেছে।
— কী ভুল?
বীরেশ্বর মেঝে থেকে একটি ছোট্ট সোনালি ব্যাজ তুলে ধরলেন।
ব্যাজে খোদাই করা ছিল একটি চিহ্ন— কালো সাপের ফণা।
বীরেশ্বর বললেন,
— এটাই তাদের গোপন সংগঠনের চিহ্ন। তবে এবার ওদের পালানোর রাস্তা শেষ।
বড়বাবু অবাক হয়ে বললেন,
— মানে?
বীরেশ্বর হালকা হেসে পকেট থেকে একটি ছোট্ট ডিভাইস বের করলেন।
— অমিতাভ যখন ঘরে ঢুকেছিল, তখনই আমি ওর কোটে ট্র্যাকার লাগিয়ে দিয়েছিলাম।
যতনের চোখ বড় হয়ে গেল।
— তাই বলুন! তাহলে এখন আমরা ওকে ধরতে পারব?
— অবশ্যই।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ট্র্যাকারের সিগন্যাল ধরে কলকাতার উপকণ্ঠে একটি পুরনো ফ্যাক্টরির সামনে পৌঁছে গেল।
ফ্যাক্টরিটা বাইরে থেকে পরিত্যক্ত মনে হলেও ভেতরে আলো জ্বলছিল। চারদিকে সশস্ত্র পাহারা।
বীরেশ্বর নিচু গলায় বললেন,
— এটাই ওদের আসল ঘাঁটি।
বড়বাবু সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার নির্দেশ দিলেন।
রাত প্রায় তিনটে। হঠাৎ পুলিশের সাইরেন বেজে উঠতেই ফ্যাক্টরির ভেতরে হুলস্থুল পড়ে গেল। পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করতে লাগল।
কিন্তু এবার পুলিশ পুরো প্রস্তুত ছিল।
একদিকে গুলির লড়াই চলছে, অন্যদিকে পাচারকারীরা গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালাতে চাইছিল।
বীরেশ্বর আর যতন দ্রুত ফ্যাক্টরির ভেতরে ঢুকে পড়লেন।
ভেতরের বিশাল ঘরে সারি সারি কাঠের বাক্স রাখা। বাক্স খুলতেই দেখা গেল হীরে, বিদেশি মুদ্রা আর নকল পাসপোর্টে ভর্তি।
ঠিক তখনই উপরের অফিসঘর থেকে অমিতাভ রায় বেরিয়ে এল। তার হাতে বন্দুক। মুখে আগের সেই ঠান্ডা হাসি আর নেই। এবার স্পষ্ট আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে।
অমিতাভ চিৎকার করে বলল,
— কেউ সামনে এগোবেন না!
সে যতনকে লক্ষ্য করে বন্দুক তাক করল।
যতন ভয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
অমিতাভ বলল,
— রাস্তা ছেড়ে দিন, না হলে ওকে মেরে ফেলব!
বীরেশ্বর শান্ত গলায় বললেন,
— আপনার খেলা শেষ অমিতাভবাবু। আত্মসমর্পণ করুন।
— কখনো না!
অমিতাভ ট্রিগারে চাপ দিতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই যতন সাহস করে পাশে রাখা একটি লোহার চেইন টেনে ফেলে দিল। উপরের ভারী হুক দুলে এসে অমিতাভের হাতে সজোরে আঘাত করল। বন্দুক মাটিতে পড়ে গেল।
সুযোগ বুঝে বীরেশ্বর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। কয়েক সেকেন্ডের ধস্তাধস্তির পর পুলিশ এসে অমিতাভকে গ্রেফতার করল।
সব শেষ হতে তখন ভোর হয়ে গেছে।
ফ্যাক্টরির বাইরে দাঁড়িয়ে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে শহরটাকে আলোকিত করছিল।
বড়বাবু গভীর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন,
— অবশেষে পুরো পাচার চক্র ধরা পড়ল।
পুলিশ উদ্ধার করল কোটি কোটি টাকার হীরে, অবৈধ নথি আর আন্তর্জাতিক পাচার নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
কয়েকদিন পরে আদালতে অমিতাভ রায় এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির রায় ঘোষণা করা হয়। অরিন্দম সেনের হত্যার বিচারও শেষ পর্যন্ত মিলল।
সংবাদপত্রে আবার শিরোনাম হল—
“বীরেশ্বর গোয়েন্দার বুদ্ধিতে ধ্বংস আন্তর্জাতিক হীরে পাচার চক্র।”
কয়েক সপ্তাহ পরে এক শান্ত সন্ধ্যায় বীরেশ্বর নিজের অফিসে বসে চা খাচ্ছিলেন। বাইরে আবার হালকা বৃষ্টি পড়ছে।
যতন জানলার পাশে দাঁড়িয়ে হেসে বলল,
— স্যার, ভাবতেই অবাক লাগে… একটা সাধারণ লাল ছাতা থেকে এত বড় রহস্য বেরোবে!
বীরেশ্বর মুচকি হেসে বললেন,
— গোয়েন্দাগিরিতে সবচেয়ে সাধারণ জিনিসই অনেক সময় সবচেয়ে বিপজ্জনক রহস্য লুকিয়ে রাখে।
যতন বলল,
— তবে একটা কথা… ওই ছাতাটা আমি জীবনে ভুলব না।
বীরেশ্বর জানলার বাইরে তাকালেন।
বৃষ্টির ফোঁটা ধীরে ধীরে শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো ভিজিয়ে দিচ্ছিল।
আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই যেন চিরতরে শেষ হয়ে গেল ‘লাল ছাতার রহস্য’।
সমাপ্ত
📢 পাঠকদের উদ্দেশ্যে
গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল, তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা আমাদের আরও ভালো গল্প উপহার দিতে অনুপ্রাণিত করে। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে আরও বাংলা গল্পপ্রেমীরা এটি পড়ার সুযোগ পান। আপনার একটি শেয়ার এবং একটি মন্তব্য আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ❤️
Tanmoy Roy
Bengali Author • Storyteller • Founder & Lead Author of CHOLO GOLPO SUNI
Tanmoy Roy is a Bengali author, storyteller, and founder of CHOLO GOLPO SUNI. He writes original Bengali fiction across mystery, thriller, horror, adventure and emotional drama. His stories focus on suspense, realism, emotion and memorable characters, creating immersive reading experiences for Bengali readers worldwide.
Mystery • Thriller • Horror • Adventure • Emotional Drama • Bengali Fiction
© Tanmoy Roy | CHOLO GOLPO SUNI | Bengali Mystery, Thriller, Horror & Original Fiction

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন