সর্প-দ্বীপ (Snake Island) | Part 02 | অভিশপ্ত দ্বীপের জঙ্গল | Thriller adventure story of a bengal boy in a Brazil mysterious island full of venomous snakes | Story by Tanmoy Roy| CHOLO GOLPO SUNI

 


সকালে ঘুম ভাঙতেই রাজেশ বুঝতে পারল আবহাওয়া আবার খারাপ হতে শুরু করেছে।

আকাশের উত্তর দিকটা ধীরে ধীরে কালো হয়ে আসছে। সমুদ্রের দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস বইছে অবিরাম। দূরে দূরে ঢেউয়ের গর্জনও আগের দিনের তুলনায় অনেক বেশি শোনা যাচ্ছিল।

ড্যানিয়েল খুব ভোরেই উঠে জাহাজের কাজ শুরু করে দিয়েছিল।

রাতভর পরিশ্রম করার ফলে জাহাজের বেশিরভাগ অংশ সে মেরামত করতে পেরেছে। কিন্তু এখনও কিছু কাজ বাকি।

অপূর্ববাবু নিচে নেমে জাহাজটা দেখে বললেন,

— “আজ ফিরতে পারবো?”

ড্যানিয়েল মাথা নাড়ল।

— “না। এই আবহাওয়ায় সমুদ্রে নামা ঠিক হবে না। তুফান আবার আসতে পারে।”

তারপর একটু থেমে বলল,

— “আর একটা সমস্যা আছে। রাতে আগুন জ্বালানোর জন্য কাঠও প্রায় শেষ।”

এই কথা শোনার পর সবাই আবার জঙ্গলের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

রাজেশও এবার তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য জেদ ধরল।

জাহাজে একা বসে থাকার চেয়ে জঙ্গলে যাওয়াই তার কাছে বেশি রোমাঞ্চকর লাগছিল।

সকালবেলা সবাই ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

দ্বীপটার ভেতরের জঙ্গলটা বাইরে থেকে যতটা সুন্দর দেখায়, ভেতরে ঢুকলে ঠিক ততটাই অদ্ভুত লাগে।

মাটির উপর ভেজা পাতা ছড়িয়ে আছে। চারপাশে বিশাল বিশাল গাছ। কোথাও সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না।

তবুও আশ্চর্যের বিষয় — এত বড় জঙ্গল হয়েও এখানে প্রায় কোনো পশুপাখির শব্দ নেই।

শুধু মাঝে মাঝে দূরে কোথাও শুকনো পাতার উপর কিছু একটা সরার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

রাজেশ কয়েকবার পেছন ফিরে তাকাল।

কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না।

জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তারা শুকনো কাঠ কুড়োতে লাগল। কিছুটা ভেতরে যেতেই তারা কয়েকটা পেয়ারা গাছ দেখতে পেল।

গাছ ভর্তি পাকা পেয়ারা।

একজন কর্মচারী গাছে উঠে পেয়ারা পাড়তে লাগল। অন্যরা কলা গাছ থেকে কলা সংগ্রহ করছিল।

রাজেশও শুকনো কাঠ কুড়িয়ে ব্যাগে ভরছিল।

হাঁটতে হাঁটতে তারা জঙ্গলের আরও গভীরে চলে গেল।

দুপুরের পর থেকেই আবহাওয়া আরও খারাপ হতে শুরু করল।

আকাশ প্রায় কালো হয়ে এসেছে।

ড্যানিয়েল বলল,

— “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরতে হবে।”

সবাই দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।

ঠিক তখনই—

রাজেশ আচমকা হাত তুলে সবাইকে থামতে বলল।

সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

রাজেশ আস্তে করে আঙুল তুলে সামনের একটা গাছের দিকে দেখাল।

প্রথমে কেউ কিছু বুঝতে পারল না।

তারপর হঠাৎ অপূর্ববাবুর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল।

গাছের ডালে একটা ছোট পাখি বসে আছে।

আর ঠিক তার উপরের ডালে নিঃশব্দে ঝুলে আছে একটা বিশাল সাপ।

সাপটা এতটাই স্থির হয়ে ছিল যে প্রথমে বোঝাই যায়নি।

সবার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এল।

সাপটা ধীরে ধীরে এগোতে লাগল।

এত আস্তে আর নিঃশব্দে এগোচ্ছিল যে পাখিটা কিছুই বুঝতে পারল না।

হঠাৎ—

ঝাঁপ!

এক মুহূর্তে সাপটা পাখিটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।

পাখিটাকে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে তার ঘাড়ে ছোবল মারল।

পাখিটা ছটফট করতে করতে মাটিতে পড়ে গেল।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব শেষ।

দৃশ্যটা দেখে রাজেশের শরীর কেঁপে উঠল।

জীবনে প্রথমবার সে এত কাছ থেকে প্রকৃতির এমন নিষ্ঠুর রূপ দেখল।

কিন্তু ঠিক তখনই ড্যানিয়েল আচমকা চিৎকার করে উঠল।

— “ওহ মাই গড… গোল্ডেন ল্যান্সহেড!”

তার মুখের রং মুহূর্তে বদলে গেল।

সে আতঙ্কিত গলায় বলতে লাগল,

— “আমাদের এখান থেকে এখনই বেরোতে হবে!”

অপূর্ববাবু অবাক হয়ে বললেন,

— “কি হয়েছে?”

ড্যানিয়েল কাঁপা গলায় বলল,

— “তোমরা বুঝতে পারছ না… এটা সাধারণ সাপ না।”

তারপর সে ধীরে ধীরে এই দ্বীপের ইতিহাস বলতে শুরু করল।

“এই দ্বীপের আসল নাম ইলহা দা কুইমাদা গ্রান্ডে। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর দ্বীপগুলোর একটা।”

রাজেশ অবাক হয়ে শুনছিল।

ড্যানিয়েল বলল,

“এখানে হাজার হাজার বিষধর সাপ থাকে। আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো গোল্ডেন ল্যান্সহেড।”

সে আরও বলল,

“এই সাপের বিষ সাধারণ সাপের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী। কামড়ালে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মৃত্যু হতে পারে।”

চারপাশটা হঠাৎ আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

দূরে কোথাও বাতাসে পাতার শব্দ হচ্ছিল।

ড্যানিয়েল আবার বলতে শুরু করল।

“আমার দাদু একবার এই দ্বীপে এসেছিলেন। তখন কেউ এই জায়গার আসল সত্য জানত না। জঙ্গলের মধ্যে হাঁটার সময় একটা গোল্ডেন ল্যান্সহেড তার ঘাড়ে ছোবল মারে।”

সে কিছুক্ষণ থামল।

তারপর নিচু গলায় বলল,

— “দাদু আর বাঁচেননি।”

রাজেশের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

ঠিক তখনই তাদের পিছনে থাকা এক কর্মচারীর চোখে লোভের ঝিলিক দেখা দিল।

সে নিচে তাকিয়ে দেখল — গাছের গোড়ার কাছে পাতার আড়ালে কয়েকটা ডিম পড়ে আছে।

তার মাথায় সঙ্গে সঙ্গে একটা চিন্তা এল।

যদি সে একটা ডিম নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে পারে?

তাহলে কয়েক হাজার ডলার পাবে।

নিজের জাহাজ কিনতে পারবে।

লোভে তার চোখ চকচক করতে লাগল।

সে আস্তে আস্তে হাত বাড়াল ডিমগুলোর দিকে।

ড্যানিয়েল কিছু একটা বুঝতে পেরে চিৎকার করে উঠল,

— “না! হাত দিও না!”

কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

পরের মুহূর্তেই উপরে থাকা সাপটা বিদ্যুতের গতিতে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

ছোবল!

লোকটার আঙুলে দাঁত বসিয়ে দিল সাপটা।

সে প্রচণ্ড চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেল।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার শরীর কাঁপতে শুরু করল।

মুখ দিয়ে ফেনা বেরোতে লাগল।

আর তারপর… সব শেষ।

সবাই আতঙ্কে জমে গেল।

কেউ তার কাছে যাওয়ার সাহস পেল না।

কারণ সাপটা এখনও ফণা তুলে তাদের সামনে বসে আছে।

ঠিক তখনই চারপাশের গাছের ডাল নড়ে উঠতে শুরু করল।

রাজেশ উপরে তাকিয়ে যা দেখল, তাতে তার বুক হিম হয়ে গেল।

চারপাশের গাছে অসংখ্য সাপ ঝুলে আছে।

তাদের হলুদ চোখ অন্ধকারের মধ্যে জ্বলজ্বল করছে।

যেন তারা সবাই একসঙ্গে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

ড্যানিয়েল দ্রুত শুকনো কাঠ বের করে আগুন জ্বালাতে লাগল।

— “গোল্ডেন ল্যান্সহেড আগুন সহ্য করতে পারে না!”

কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই হাতে হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল।

আর ঠিক তখনই — জঙ্গলের ভেতর থেকে ফোঁস ফোঁস শব্দ ভেসে এল।

চারপাশের অন্ধকারে অসংখ্য সাপ ধীরে ধীরে নড়তে শুরু করেছে…

(চলবে)


📢 পাঠকদের উদ্দেশ্যে

গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল, তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা আমাদের আরও ভালো গল্প উপহার দিতে অনুপ্রাণিত করে। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে আরও বাংলা গল্পপ্রেমীরা এটি পড়ার সুযোগ পান। আপনার একটি শেয়ার এবং একটি মন্তব্য আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ❤️


``` Tanmoy Roy

Tanmoy Roy

Bengali Author • Storyteller • Founder & Lead Author of CHOLO GOLPO SUNI

```

Tanmoy Roy is a Bengali author, storyteller, and founder of CHOLO GOLPO SUNI. He writes original Bengali fiction across mystery, thriller, horror, adventure and emotional drama. His stories focus on suspense, realism, emotion and memorable characters, creating immersive reading experiences for Bengali readers worldwide.

📚 Genres:
Mystery • Thriller • Horror • Adventure • Emotional Drama • Bengali Fiction
Connect With The Author 👇

© Tanmoy Roy | CHOLO GOLPO SUNI | Bengali Mystery, Thriller, Horror & Original Fiction

মন্তব্যসমূহ